যেভাবে হবে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল
চলতি বছর উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের প্রস্তুতি শুরু করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সাবজেক্ট ম্যাপিং পদ্ধতির মাধ্যমে জেএসসি থেকে ২৫ নম্বর এবং এসএসসি থেকে ৭৫ নম্বরের সমন্বয়ে এইচএসসি পরীক্ষার ফল তৈরি হবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাজশাহীতে একসাথে ৫ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন মেরিনা। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের কারণে স্থগিত হওয়া এইচএসসি ও সমমানের ছয়টি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া বিষয়গুলোর মূল্যায়নের জন্য জেএসসি ও এসএসসির সাবজেক্ট ম্যাপিং প্রয়োগ করা হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জেএসসিতে প্রাপ্ত নম্বরের ২৫ শতাংশ এবং এসএসসিতে প্রাপ্ত নম্বরের ৭৫ শতাংশ যোগ করে শিক্ষার্থীদের নম্বর নির্ধারণ করা হবে।
যেমন, যদি একজন শিক্ষার্থী জেএসসি তে ১০০ নম্বর পেয়ে থাকেন, তাহলে তিনি ২৫ নম্বর এবং একই বিষয়ে এসএসসিতে ১০০ নম্বর পেলে ৭৫ নম্বর পাবেন। এই দুই নম্বর যোগ করে ওই বিষয়ের জন্য তার এইচএসসি নম্বর হবে ১০০।
গত সপ্তাহে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে ফল প্রকাশের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর তপন কুমার সরকার বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে পরীক্ষাগুলো বাতিল হয়েছিল। পূর্ববর্তী পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ফল প্রকাশ করা হবে। এই প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত আসলে দ্রুত ফল প্রকাশ করা হবে।”
এই বছর এইচএসসি পরীক্ষার শুরু হয়েছিল ৩০ জুন। ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা সম্পন্ন ছিল। তবে কোটা আন্দোলনের কারণে ১৮ জুলাইয়ের পরীক্ষা এবং পরবর্তী ২১, ২৩ ও ২৫ জুলাইয়ের পরীক্ষাগুলি স্থগিত করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।
পরিস্থিতির ভিত্তিতে বাকি পরীক্ষার তারিখ একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়, এবং সর্বশেষ নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয় ১১ আগস্ট। এই সময় শিক্ষার্থীরা স্থগিত পরীক্ষাগুলি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন এবং ২০ আগস্ট সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে এসব পরীক্ষা বাতিল করা হয়।
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি বোর্ড ও মাদরাসা বোর্ডের অধীনে মোট ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ।

